শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং জাতির উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঠশালা হলো তার প্রাথমিক শিক্ষা, আর সেই ভিত্তি যত দৃঢ় হবে, তার ভবিষ্যৎ জীবন ততই আলোকিত হবে। কোমলমতি শিশুদের মানস গঠনে এবং নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কিন্ডার গার্টেনসমূহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সারাদেশের শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হলো—শিশুরা যেন শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না থেকে, দেশপ্রেম, নৈতিকতা, মানবিকতা এবং আধুনিক জ্ঞানচর্চার মাধ্যমে নিজেদেরকে আগামী দিনের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারে।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমাদের এই প্রচেষ্টা সফল হবে। আজকের এই শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তাই তাদের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আমি সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের সম্মিলিত প্রয়াসে একটি আলোকিত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
মহাসচিবের বাণী
জনাব মোঃ ইস্কান্দার আলী হাওলাদার
মহাসচিব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন
শিশু হলো জাতির ভবিষ্যতের শিখা, আগামী ভোরের আলোকবর্তিকা। তাদের হাসি, তাদের খেলাধুলা, তাদের নিষ্পাপ স্বপ্নের ভেতরেই লুকিয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ। বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশন সেই কোমল হৃদয়ের ফুলগুলোকে সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে সুবাসিত বাগানে পরিণত করার এক মহৎ দায়িত্ব বহন করে চলছে।
শৈশবকাল হলো জীবনের সবচেয়ে কোমল ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই বয়সে একটি শিশুর মনে যেমন গড়ে ওঠে মানবিকতার বীজ, তেমনি বিকশিত হয় জ্ঞানের অঙ্কুর। তাই আমাদের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো—শিশুদের এমন এক শিক্ষার পরিবেশ প্রদান করা, যেখানে তারা আনন্দের সাথে শিখবে, মুক্ত আকাশে উড়বে, আবার মানবিক মূল্যবোধে ভরপুর হয়ে বেড়ে উঠবে।
আজকের এই দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের আলো যেমন আমাদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, তেমনি নৈতিকতা ও ভালোবাসার পাঠও সমানভাবে প্রয়োজন। আমরা চাই, আমাদের প্রতিটি শিশু যেন শুধু জ্ঞানেই নয়, হৃদয়ের মহিমাতেও সমুন্নত হয়। যেন তারা শুধু বিদ্যাবুদ্ধিতেই নয়, দেশপ্রেম, সততা আর দায়িত্ববোধেও হয়ে ওঠে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
বাংলাদেশ কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের পথচলায় প্রতিটি শিক্ষক, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর অবদান অনন্য। আমরা সবাই মিলে যদি একসাথে হাত বাড়াই, তবে নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনের বাংলাদেশ হয়ে উঠবে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত, মানবিকতায় পূর্ণ এক স্বপ্নরাজ্য।
এই পবিত্র অভিযাত্রায় জড়িত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও আমাদের ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য রইল আমার আন্তরিক শুভকামনা ও অশেষ ভালোবাসা। আসুন, আমরা সবাই মিলে শিশুর হাসির ভেতর দিয়ে গড়ে তুলি এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, এক আলোকিত বাংলাদেশ।
সাংগঠনিক সচিবের বাণী
প্রফেসর এইচ, এম, নজরুল ইসলাম
সাংগঠনিক সচিব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন
জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও জীবন ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে যুগোপযোগী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতাত্তোর শিক্ষার প্রসারলাভে সময়ের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষার ধারক ও বাহক হিসেবে চলমান ধারায় পরিচালিত। জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে হতে হয় গতিশীল ও জীবনমুখী। আবার শিক্ষা ব্যবস্থার গতিশীলতার জন্য প্রয়োজন হয় সুচিন্তিত কার্যক্রম ও পাঠ্যসূচীর ধারাবাহিক পরিমার্জন ও নবায়ন। বিগত বছরগুলোতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম একাধিক বার পরিমার্জন ও নবায়ন করা হয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে শিশু শ্রেণি হতে অষ্ঠম শ্রেণি পর্যন্ত মেধা বৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পরিমার্জিত ও নবায়নকৃত পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাস কারিকুলাম অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে।
আমাদের এ সকল বেসরকারি পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীরা সরকারী পর্যায়ের কোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেতো না। যার ফলে সংগত কারণেই আমাদের সংগঠনের উদ্যোগে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল যার ধারাবাহিকতা এখনো বজায় রয়েছে।
বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রণকারী শিক্ষার্থীদের জন্য সঠিক দিক-নির্দেশনা ও পঠিতব্য বিষয়ের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিলেবাসের বিশেষ প্রয়োজন বিধায় সিলেবাস প্রণয়ন কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দ চলমান শিক্ষাপদ্ধতির আলোকে বর্তমান প্রণীত সিলেবাসটি প্রণয়ন করেছেন এবং আমাকেও সম্পৃক্ত রেখেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ। আশাকরি সিলেবাসটি সকলের নিকট গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ ।
শিক্ষা সচিবের বাণী
জনাব মোঃ আলহাজ উদ্দিন রোহিত
শিক্ষা সচিব বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন
শিক্ষা বাংলাদেশের মানুষের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। মানব সম্পদ উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন, জীবনমানের উন্নয়ন ও মনুষ্যত্ববোধ বিকাশে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব অগ্রগতি ও অবাধ তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী ও জীবন ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে যুগোপযোগী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতাত্তোর শিক্ষার প্রসারলাভে সময়ের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী আধুনিক শিক্ষার ধারক ও বাহক হিসেবে চলমান ধারায় পরিচালিত।
জাতীয় অগ্রগতির স্বার্থেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে হতে হয় গতিশীল ও জীবনমুখী। আবার শিক্ষা ব্যবস্থার গতিশীলতার জন্য প্রয়োজন হয় সুচিন্তিত কার্যক্রম ও পাঠ্যসূচীর ধারাবাহিক পরিমার্জন ও নবায়ন। বিগত বছরগুলোতে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রম একাধিক বার পরিমার্জন ও নবায়ন করা হয়েছে। নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের নেতৃত্বে শিশু শ্রেণি হতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মেধা বৃত্তি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পরিমার্জিত ও নবায়নকৃত পাঠ্যপুস্তক ও সিলেবাস কারিকুলাম অনুযায়ী প্রণয়ন করা হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন এসাসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সর্বসম্মত সিদ্ধাান্তক্রমে আমাকে যুগ্মআহ্বায়ক করে সিলেবাস প্রণয়ন ও সম্পাদনা পরিষদ গঠন করা হয়। সিলেবাস প্রণয়নে সম্পাদনা পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দের বুদ্ধিদীপ্ত নির্দেশনা, সময়োপযোগী পরামর্শ ও পরিশ্রম ব্যতিত এ ধরণের সিলেবাস উপহার দেয়া সম্ভব হতো না। এসোসিয়েশনের মাননীয় চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের সুনির্দিষ্ট দিক- নির্দেশনা ও কার্যকরী ভূমিকা আমাকে কৃতজ্ঞতার আবর্তে আবদ্ধ করেছে। বর্তমান প্রণীত সিলেবাসটির উন্নয়নের জন্য যেকোনো গঠনমূলক ও যুক্তিসংগত পরামর্শ গুরুত্বের সাথে বিবেচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পৌঁছে দেয়ার জন্য মুদ্রণ কাজ দ্রুত করতে গিয়ে সিলেবাসে কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থেকে যেতে পারে। পরবর্তী সময়ে সিলেবাসটি আরও সুন্দর, শোভনীয় ও আধুনিক করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। সিলেবাসটি পুন:সংস্করণ করে প্রণয়ন করা হলো। আশা রাখি সিলেবাসটি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিলেবাস প্রণয়নেও যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখবে ইন্শাআল্লাহ ।